
মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি ও ট্রমা মোকাবেলায় সমাজের সর্বস্তরে থিয়েটার থেরাপির অনুশীলন নিশ্চিত করতে হবে।
“মানসিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তির মনোবল ভেঙ্গে দেয়, সুষ্ঠু সামাজিক জীবনাচার ব্যাহত করে। তাই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়মিত গ্রহণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য অত্যাবশ্যক সহায়তা হিসাবে বিবেচনা করা উচিৎ। এক্ষেত্রে প্রচলিত কাউন্সিলিং, সাইকোথেরাপির পাশাপাশি গ্রæপসাইকোথেরাপির অন্যতম প্রয়োগ প্রক্রিয়া থিয়েটার থেরাপি তথা থেরাপিউটিক থিয়েটার এর দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে হবে। সেইসাথে মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি ও ট্রমা মোকাবিলায় সমাজের সর্বস্তরে থিয়েটার থেরাপির অনুশীলন নিশ্চিত করতে হবে”। গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪) উৎস কার্যালয়ে আয়োজিত “থেরাপিউটিক থিয়েটার এন্ড ইটস সোশাল ইমপ্যাক্ট” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এডাব (অউঅই); চট্টগ্রাম জেলার চেয়ারপার্সন নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।
নাট্যকলা বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং উৎস (UTSA) যৌথভাবে আয়োজন করেছিল উক্ত সেমিনার। সেমিনারে সেমিনারপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থেরাপিউটিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (BTTI) এর সমন্বয়কারী ও মনোবিশ্লেষক নাট্য চর্চাকারী মুহাম্মদ শাহ আলম। নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুনুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন উৎস এর নির্বাহি পরিচালক নাট্যক্রিয়াবিদ মোস্তফা কামাল যাত্রা। নাট্যকলা বিভাগের এম.এ. চুড়ান্ত পর্বের ২০জন শিক্ষার্থী, উৎস পরিচালিত Humanity and Equality to Accelerate Rights Through Therapeutic Theatre (HEART) প্রকল্পের ৬জন থিয়েটার থেরাপিষ্ট পিয়ারসহ উৎসের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, রীপা পালিত, মো: সুমন সরকার এই সেমিনারে যোগদান ও সেমিনারপত্র নিয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
মোস্তফা কামাল যাত্রা বলেন: “৩ দশকের অধিক সময় ধরে উৎস প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মনোবিশ্লেষক নাট্যযজ্ঞ অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে কাজ করছেন। সংস্থাগতভাবে মনো-সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উৎস সাংগঠনিকভাবে যে সমাজ উন্নয়ন ধর্মি কর্মকান্ড পরিচালনা করছে তাতে কারিগরি ও আর্থিক সমর্থন যুক্তিতে প্রায় অর্ধশত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। যদি আমার মনোবৈজ্ঞানিক নাট্যক্রিয়া কোন ধরণের সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি না করে থাকে বা থেরাপিউটিক থিয়েটার কোন ভূমিকাই না রাখবে তবে দাতা সংস্থাগুলো কেন আমাদের পরিচালিত ক্রিয়া কর্মের জন্য সমর্থন যোগাচ্ছে?”
নাট্যশিক্ষক মামুনুল হক বলেন: “থিয়েটার থেরাপিষ্ট গড়ে তুলতে চ.বি. নাট্যকলা বিভাগ ফলিত নাট্যকলা এর অন্যতম প্রধান নাট্যশৈলী “থেরাপিউটিক থিয়েটার”কে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আমাদের বিভাগীয় পাঠ্যক্রম প্রনয়ন করেছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে “থেরাপিউটিক থিয়েটার” খুবই গুরুত্ব নিয়ে পড়ানো হয়। যাতে করে একাডেমিকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ‘থিয়েটার থেরাপিষ্ট গড়ে তোলা যায়। যারা আমাদের দেশের মনোস্বাস্থ্য সেবা খাতে দক্ষ জনবল হিসাবে অবদান রাখতে পারে।”
সেমিনার পত্রে নিরামীয় নাট্য প্রশিক্ষক মুহাম্মদ শাহ্ আলম ইতোমধ্যে লক্ষ জনগোষ্ঠীভিত্তিক প্রয়োগকৃত থেরাপিউটিক থিয়েটার অনুশীলনে নানান উদাহরণ দিয়ে এই ধারার নাট্যবিদ্যার সামাজিক প্রভাব আলোকপাত করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ ক্রিয়াগুলো হলো- সাভার ট্রাজেডি, মিরসরাই ট্রাজেডি, রাঙ্গামাটি ট্রাজেডি উত্তর পরিচালিত থেরাপিউটিক থিয়েটার ক্যাম্পগুলোর প্রয়োগ ও সাফল্যের ইতিবৃত্ত।
সেমিনার শেষে শিক্ষার্থীবৃন্দ উৎস’র কর্মএলাকা ফিরোজশাহ্ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্লেব্যাক থিয়েটার অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করেন এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন।






