নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতি গণমাধ্যমের সংবেদনশীল ভূমিকা ও দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান জরুরী

নারীর প্রতি সহিংসতার মানসিক প্রভাব এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে ২৭ এপ্রিল ২০২৫ চট্টগ্রামের জামালখানস্থ সুপ্রভাত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘নির্যাতনের শিকার নারীদের মনোস্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন (উৎস) এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে,  এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, “নারীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। নির্যাতনের শিকার নারী যেন সহায়তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে উৎসের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা বলেন, “নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা কেবল ব্যক্তির ক্ষতি নয়, তা সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্যও প্রতিবন্ধক। মনোসামাজিক সেবা নীতিমালায় নারীবান্ধব ও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন উৎসের প্রোগ্রাম অফিসার রীপা পালিত, যেখানে নির্যাতনের শিকার নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, PTSD, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষাবিদ ড. আনোয়ারা আলম, মানবাধিকারকর্মী জেসমিন সুলতানা পারু, সাংবাদিক ডেইজি মওদুদ, কথাসাহিত্যিক ওমর কায়সার এবং চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার আনজুমান বানু লিমা।

বক্তারা বলেন, সংবেদনশীল রিপোর্টিং ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গণমাধ্যমকে হতে হবে নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে পরিবর্তনের শক্তি।

আলোচকরা আরও বলেন, নির্যাতনের কারণে সৃষ্ট মনোসামাজিক সমস্যা — যেমন ট্রমা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও পেশাগত স্থবিরতা — মোকাবিলায় বিশেষায়িত সেবা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একইসাথে নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য দ্রুত মনোসামাজিক সেবা এবং আইনি সহায়তার সংযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আশরাফি বিনতে মোতালেব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইরা আহমেদ, সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিশকাতুল মমতাজ মুমু, উৎস’র নির্বাহী সদস্য জোবায়দুর রশীদ, সৈয়দা সৈয়দুর ন্নেছা, নারী যোগাযোগ কেন্দ্রের আহ্বায়ক সালমা জাহান মিলি এবং ইপসার ডেপুটি ডিরেক্টর মো. শহীদুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক কামরুল হাসান বাদল বলেন, “নারীর মর্যাদা রক্ষায় মনোসামাজিক সহায়তার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়।” অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর প্রধান প্রতিবেদক নিজাম সিদ্দিকী। বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য দ্রুত, সম্মানজনক ও সংবেদনশীল সহায়তা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *