নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র জানতে ডাটা সাংবাদিকতার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন

উৎস’র উদ্যোগে সাংবাদিকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে প্রতিদিনই প্রতিমুহুর্তে কোথায় না কোথাও নারীরা নানানরকম সহিংসতা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তার প্রকৃত চিত্র কোনভাবেই সামনে আসছে না। নির্যাতনের তথ্যের জন্য এখনও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও থানায় যে কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হয় তার উপর নির্ভর করতে হয়। এ মাধ্যমগুলোর বাইরেও নারীর প্রতি সহিংসতার উন্মুক্ত তথ্য সংগ্রহ করা এবং ডাটা সাংবাদিকতার প্রসার ঘটানোর লক্ষে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাটাফুল, সংবাদ মাধ্যম দৈনিক সংবাদ ও সুপ্রভাত বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংগঠন ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন (উৎস)-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘কানেক্টিং ডটস: এক্সপোজিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইন্সট উইমেন থ্রো ওপেন ডাটা, অ্যানোনিমাস রিপোর্টিং অ্যান্ড রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট’ প্রকল্প।

এই প্রকল্পের আওতায় নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরীর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন (উৎস)-এর আয়োজনে আজ (০৮ ডিসেম্বর ২০২৪) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে গণমাধ্যম কর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, এর ব্যবহার ও প্রতিবেদন তৈরী বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।

কর্মশালায় তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর আইনগত ব্যাখ্যা, এর ব্যবহার সর্ম্পকিত বিষয়ে অধিবেশন পরিচালনা করেন এ.বি.এম আবু নোমান, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। নারীর প্রতি সহিংসতা ও তথ্য অধিকার আইনের সম্পর্ক এবং জেন্ডার সেনসেটিভ প্রতিবেদন তৈরী বিষয়ক অধিবেশন পরিচালনা করেন রওশন আকতার, সহকারী অধ্যাপক ও সভাপতি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও ডাটা সাংবাদিকতা বিষয়ে অধিবেশন পরিচালনা করেন পলাশ দত্ত, নির্বাহী পরিচালক, ডাটাফুল।

আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুরুতে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার ভ‚মিকা নিয়ে আলোচনা করেন ডাটাফুলের নির্বাহী পরিচালক পলাশ দত্ত, উৎস’র নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা, সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর সহযোগী সম্পাদক কামরুল হাসান বাদল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ শাহ্ আলম, কর্মসূচি সমন্বয়কারী, উৎস।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন পত্রিকায় কর্মরত ১৩জন নারী ও ৪ জন পুরুষ গণমাধ্যম কর্মীসহ ২৫জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। সমাপনি পর্বে অংশগ্রণকারী সকলকে সনদপত্র তুলে দেন প্রশিক্ষকবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *