নারী যোগাযোগ কেন্দ্র’র জাতীয় সম্মেলন ২০২৪ অনুষ্ঠিত

নারীর প্রতি নির্যাতন ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আরো সোচ্চার হতে হবে

‘১৯৮৪ সালে ফরিদপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামের নারীদের সংগঠিত করে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্লোগাণ দিয়ে রাস্তায় নেমে শুরু করেছিলাম প্রতিবাদ। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায়, নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০০৪ সালে এই নারী যোগাযোগ কেন্দ্র কাজ শুরু করে। নির্যাতন-সহিংসতার বিরুদ্ধে-বৈষ্যমের বিরুদ্ধে-বাল্য বিয়ে বন্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০২৪ সালে এসেও আজও নারীদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে নারীর প্রতি নির্যাতন-সহিংসতার বিরুদ্ধে। প্রতিদিন প্রতিঘন্টায় কোথাও না কোথাও নারীরা শিকার হচ্ছেন নির্যাতনের। বাংলাদেশের নারীরা এগিয়েছে কথাটা যেমন সত্য তেমনি নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি নির্যাতন, খুন, ধর্ষণসহ নানার রকম নির্যাতন নানা ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে কথাটাও তেমন সত্যি। তাই নারীর প্রতি সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে নারীকে সবার আগে রুখে দাঁড়াতে হবে।’


প্রতিবাদে, প্রতিরোধে, দ্রোহে, জাগরণে এই শ্লোগাণকে সামনে রেখে আজ নগরীর কারিতাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মরত অধিপরামর্শমূলক জাতীয় মোর্চা নারী যোগাযোগ কেন্দ্র’র জাতীয় সম্মেলন ২০২৪ এর উদ্বোধক নারী যোগাযোগ কেন্দ্র’র কেন্দ্রীয় আহŸায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা বেগম উপরোক্ত মন্তব্য করেন।


নারী যোগাযোগ কেন্দ্র ময়মনসিংহ, বান্দরবান, চট্টগ্রামের যৌথ উদ্যোগে এবং উন্নয়ন সংগঠন বিএনকেএস, ওডেব, সারা ও উৎস ও ডিয়াকোনিায়া’র সহযোগিতায় আয়োজিত সম্মেলন শুরু হয় সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হ্লা সিং ন্যু, নির্বাহী পরিচালক, বিএনকেএস, মোস্তফা কামাল যাত্রা, নির্বাহী পরিচালক, উৎস, নাসিমা পারভিন মুক্তি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ওডেব, মেলুচিং, প্রতিষ্ঠাতা, বিএনকেএ, সানু চিং, হেডম্যান, বান্দরবান।


অংগ্রহণকারী সকল সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে সম্মেলন উদ্বোধনের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওবানু মারমা, নির্বাহী পরিষদ সদস্য, বিএনকেএস, অ্যাডভোকেট আনজুমান আরা, আহŸায়ক, নারী যোগাযোগ কেন্দ্র-ওডেব, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডিয়াকোনিয়া’র প্রোগ্রাম অফিসার মাজহারুল ইসলাম ও মর্জিনা খাতুন।


সম্মেলন ২০২৪ এর ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন নারী যোগাযোগ কেন্দ্র; চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী রীপা পালিত। আরো বক্তব্য রাখেন সুলতানা রাজিয়া, সমন্বয়কারী, নারী যোগাযোগ কেন্দ্র; ময়মনসিংহ, পারমিতা চাকমা, নারী যোগাযোগ কেন্দ্র; বান্দরবান, সালমা জাহান মিলি, আহŸায়ক, নারী যোগাযোগ কেন্দ্র; চট্টগ্রাম মহানগর।


অনুষ্ঠানের অতিথি নাসিমা পারভিন মুক্তি বলেন, ‘নারীরা যখনই এগিয়ে যেতে চেয়েছে, যখনই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তখনই পুরুষতান্তিকতা নারীদের রুখে দিয়েছে, সামনে এগিয়ে যেতে দেয়নি। কিন্তু নারীরা সবসময় সোচ্চার থেকেকে প্রতিবাদ করেছে সকল অন্যায়ের।’


হ্লা সিং ন্যু বলেন, ‘সারাদেশে নারীদের প্রতি নির্যাতনের মাত্রার যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি তা ভয়াবহ। কিন্ত পাহাড়ের আদিবাসী নারীদের প্রতি নির্যাতন-সহিংসতার মাত্রা ও ধরণ আরো ভয়াবহ। যা কোথায় প্রকাশ হয় না, কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই আদিবাসী নারীদের অধিকার সুরক্ষায় ও নির্যাতন বন্ধে।’


মোস্তফা কামাল যাত্রা বলেন, ‘নারী যোগায়োগ কেন্দ্র সারাদেশে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধে এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় অধিপরামর্শ ও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে যা প্রশংসনীয়। এই মোর্চাকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়।’


সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নারী যোগাযোগ কেন্দ্র’র সদস্য অনুপমা সাহা, নাহিদা কুলসুম, নেলী, সমাদ্দার আনোয়ারা ও নুর নাহার বেগম। সবশেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সংগীত পরিবেশন করেন সানি শীল, নিবেদন, সালমা জাহান মিলি ও রীপা পালিত।


আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ শাহ্ আলম ও শ্রাবন্তী মজুমদার জুঁই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *